সান ইয়াৎ সেন
এককালের সমৃদ্ধ ও প্রতাপশালী চীন অষ্টাদশ শতকের শেষে ও উনিশ শতকের শুরুতে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিলো।অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির লোলুপদৃষ্টি এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পড়েছিলো। ১৭৫৭ সালে ভারতে ইংল্যান্ডের আধিপত্য শুরু হলে চীনের উপরও তার নজর পড়ে। ১৮৬১ সালে দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ আর ১৮৯৫ সালে জাপানের সাথে যুদ্ধ অপমানজনক চুক্তি চীন সাম্রাজ্যের শেষ নিঃশ্বাসের চিহ্ন বয়ে এনেছিলো।
দেশজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছিলো। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত সমাজের মধ্যে অসার রাজ্যের বিপরীতে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেবার গুঞ্জন তৈরি হলো। এসব নতুন ভাবধারার মানুষজনের মধ্যে সান ইয়াৎ সেন অগ্রগণ্য ছিলেন। পরবর্তীতে সান ইয়াৎ সেনই আধুনিক চীনের একচ্ছত্র নেতা হয়ে উঠেছিলেন।
চীনের অবসংবাদিত এই নেতা ১৮৬৬ সালে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি শিক্ষার জন্য বড় ভাইয়ের সাথে হংকং ও হনলুলু গমন করেন। বৈদেশিক শিক্ষা দেশ সম্পর্কে তার অন্তর্দৃষ্টি খুলে দিতে সাহায্য করেছিলো। চীনের চলমান দুরবস্থা দূর করতে অনেক তরুণের মতো তিনিও প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ১৮৯৪ সালে হনলুলুতে তিনি ‘রিভাইভ চায়না সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৫ সালের গণজাগরণ ব্যর্থ হলে তিনি দেশ ত্যাগ করে প্রথমে হংকং হয়ে জাপান, পরে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ব্রিটেনে পৌঁছান।
চীনের আমূল পরিবর্তনের জন্য তিনি তিনটি নীতি ঘোষণা করেছিলেন। ‘গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও উন্নত জীবনযাত্রা’ ছিলো এই নীতির বহিঃপ্রকাশ। এর উদ্দেশ্য ছিলো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক হস্তক্ষেপের অবসান আর আর্থিক উন্নয়ন। এই নীতিই পরে চীনের রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবের মূলনীতি হয়ে দাঁড়ায় ফিলিপাইনে স্পেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সংগ্রামেও তিনি সাহায্য করেছিলেন। চীনের সংগ্রামের বৈদেশিক ঘাঁটি হিসেবে ফিলিপাইনের সম্ভাব্য ব্যবহার তাকে আগ্রহী করে তুলেছিলো।
১৯০০ সালে তার নেতৃত্বে ‘হুওয়াইঝৌ’ বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। গুয়াংদং প্রদেশ থেকে এর বিস্তার হতে থাকে। প্রথমে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি করলেও এটি শেষ অবধি ব্যর্থ হয়।
১৯০৪ সালে তিনি বেশ কিছু কর্মসূচী ঘোষণা করলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো চীনের মাটি থেকে আগ্রাসী তাতারদের উৎখাত, সামন্ত ব্যবস্থা উৎখাত করে শাসন ও ভূমি সংস্কার করা।
১৯০৫ সালে সান ইয়াৎ সেন জাপানের টোকিও শহরে প্রবাসী চীনা ছাত্রদের দ্বারা গঠিত বিপ্লবী দলগুলিকে একত্রিত করলেন। এছাড়া পূর্বের বৈদেশিক সম্পর্কের সূত্র ধরে সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়া ও থাইল্যান্ডের চীনা ব্যবসায়ী কর্মজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। ১৯০৭ সালে চীন ও ভিয়েতনাম সীমান্তে চিং রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূত্রপাত করলেন। এই বিদ্রোহ ‘ঝেন নাংগুয়ান’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলো।
সান ইয়াৎ সেন নির্বাসনে থেকেও তার বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়িয়ে তুলছিলেন। ১৯১০ সালে ব্রিটিশ শাসিত মালয় অঞ্চলে বসবাসরত চীনা বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার হংকং ডলার তোলা হয়েছিলো।
বিদেশে থাকা সত্ত্বেও সান ইয়াৎ সেন কিন্তু বসে ছিলেন না। পশ্চিমা বিশ্বে চীনের রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবের পক্ষে সাধারণ, অভিজাত ও কূটনৈতিক মহলে জোরালো সমর্থন তৈরির কাজ করে যাচ্ছিলেন।
১৮৯৫ সালে নবগঠিত আধুনিক সেনাবাহিনীর এক বড় অংশ বিদ্রোহে যোগ দিলো।সিংহাসন আগলে রাখতে সম্রাট বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে বসলেন। চিং রাজবংশের অনুগত সৈন্যবাহিনী শেষ রক্ষা করতে চেষ্টা করলো। ১৮ অক্টোবর থেকে তাদের সাথে বিপ্লবীদের যুদ্ধ শুরু হলো। প্রথমদিকে সেনাবাহিনীর আক্রমণে বিপ্লবীদের কিছুটা কোণঠাসা অবস্থা তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু দেশজুড়ে সক্রিয় সমর্থন ও বিপ্লবীদের দৃঢ়তায় তাদের হার মানতে হলো।
সেনাপতি য়ুয়ান শিকাইয়ের সন্ধির প্রস্তাবে বিপ্লবীরা সম্মত হলেন। ফলে হাজার বছর ধরে প্রচলিত চীনা রাজতন্ত্রের অবসান হলো। ২১ ডিসেম্বর সান ইয়াৎ সেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এলেন। ২৯ ডিসেম্বর সমগ্র চীনের প্রদেশগুলো থেকে আগত প্রতিনিধিরা তাকে প্রভিন্সিয়াল প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করলো। এশিয়ার অন্যতম বড় দেশ চীন আত্মপ্রকাশ করলো প্রজাতন্ত্র হিসেবে।
দেশজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছিলো। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত সমাজের মধ্যে অসার রাজ্যের বিপরীতে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেবার গুঞ্জন তৈরি হলো। এসব নতুন ভাবধারার মানুষজনের মধ্যে সান ইয়াৎ সেন অগ্রগণ্য ছিলেন। পরবর্তীতে সান ইয়াৎ সেনই আধুনিক চীনের একচ্ছত্র নেতা হয়ে উঠেছিলেন।
চীনের অবসংবাদিত এই নেতা ১৮৬৬ সালে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি শিক্ষার জন্য বড় ভাইয়ের সাথে হংকং ও হনলুলু গমন করেন। বৈদেশিক শিক্ষা দেশ সম্পর্কে তার অন্তর্দৃষ্টি খুলে দিতে সাহায্য করেছিলো। চীনের চলমান দুরবস্থা দূর করতে অনেক তরুণের মতো তিনিও প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ১৮৯৪ সালে হনলুলুতে তিনি ‘রিভাইভ চায়না সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৫ সালের গণজাগরণ ব্যর্থ হলে তিনি দেশ ত্যাগ করে প্রথমে হংকং হয়ে জাপান, পরে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ব্রিটেনে পৌঁছান।
চীনের আমূল পরিবর্তনের জন্য তিনি তিনটি নীতি ঘোষণা করেছিলেন। ‘গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও উন্নত জীবনযাত্রা’ ছিলো এই নীতির বহিঃপ্রকাশ। এর উদ্দেশ্য ছিলো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক হস্তক্ষেপের অবসান আর আর্থিক উন্নয়ন। এই নীতিই পরে চীনের রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবের মূলনীতি হয়ে দাঁড়ায় ফিলিপাইনে স্পেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সংগ্রামেও তিনি সাহায্য করেছিলেন। চীনের সংগ্রামের বৈদেশিক ঘাঁটি হিসেবে ফিলিপাইনের সম্ভাব্য ব্যবহার তাকে আগ্রহী করে তুলেছিলো।
১৯০০ সালে তার নেতৃত্বে ‘হুওয়াইঝৌ’ বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। গুয়াংদং প্রদেশ থেকে এর বিস্তার হতে থাকে। প্রথমে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি করলেও এটি শেষ অবধি ব্যর্থ হয়।
১৯০৪ সালে তিনি বেশ কিছু কর্মসূচী ঘোষণা করলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো চীনের মাটি থেকে আগ্রাসী তাতারদের উৎখাত, সামন্ত ব্যবস্থা উৎখাত করে শাসন ও ভূমি সংস্কার করা।
১৯০৫ সালে সান ইয়াৎ সেন জাপানের টোকিও শহরে প্রবাসী চীনা ছাত্রদের দ্বারা গঠিত বিপ্লবী দলগুলিকে একত্রিত করলেন। এছাড়া পূর্বের বৈদেশিক সম্পর্কের সূত্র ধরে সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়া ও থাইল্যান্ডের চীনা ব্যবসায়ী কর্মজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। ১৯০৭ সালে চীন ও ভিয়েতনাম সীমান্তে চিং রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূত্রপাত করলেন। এই বিদ্রোহ ‘ঝেন নাংগুয়ান’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলো।
সান ইয়াৎ সেন নির্বাসনে থেকেও তার বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়িয়ে তুলছিলেন। ১৯১০ সালে ব্রিটিশ শাসিত মালয় অঞ্চলে বসবাসরত চীনা বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার হংকং ডলার তোলা হয়েছিলো।
বিদেশে থাকা সত্ত্বেও সান ইয়াৎ সেন কিন্তু বসে ছিলেন না। পশ্চিমা বিশ্বে চীনের রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবের পক্ষে সাধারণ, অভিজাত ও কূটনৈতিক মহলে জোরালো সমর্থন তৈরির কাজ করে যাচ্ছিলেন।
১৮৯৫ সালে নবগঠিত আধুনিক সেনাবাহিনীর এক বড় অংশ বিদ্রোহে যোগ দিলো।সিংহাসন আগলে রাখতে সম্রাট বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে বসলেন। চিং রাজবংশের অনুগত সৈন্যবাহিনী শেষ রক্ষা করতে চেষ্টা করলো। ১৮ অক্টোবর থেকে তাদের সাথে বিপ্লবীদের যুদ্ধ শুরু হলো। প্রথমদিকে সেনাবাহিনীর আক্রমণে বিপ্লবীদের কিছুটা কোণঠাসা অবস্থা তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু দেশজুড়ে সক্রিয় সমর্থন ও বিপ্লবীদের দৃঢ়তায় তাদের হার মানতে হলো।
সেনাপতি য়ুয়ান শিকাইয়ের সন্ধির প্রস্তাবে বিপ্লবীরা সম্মত হলেন। ফলে হাজার বছর ধরে প্রচলিত চীনা রাজতন্ত্রের অবসান হলো। ২১ ডিসেম্বর সান ইয়াৎ সেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এলেন। ২৯ ডিসেম্বর সমগ্র চীনের প্রদেশগুলো থেকে আগত প্রতিনিধিরা তাকে প্রভিন্সিয়াল প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করলো। এশিয়ার অন্যতম বড় দেশ চীন আত্মপ্রকাশ করলো প্রজাতন্ত্র হিসেবে।
Comments
Post a Comment